সারাবিশ্ব
হিজবুল্লাহর পেতে রাখা বোমায় প্রাণ গেল ইসরায়েলি সেনার
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর পেতে রাখা শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে এক ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা নিহত হয়েছেন এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ আরও সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
নিহত সেনার নাম মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) আলেকজান্ডার ফিলিন (২৯)। তিনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ৩৬তম ডিভিশনের সদর দপ্তরের একজন লড়াকু সদস্য এবং হাইফা শহরের বাসিন্দা ছিলেন।
সামরিক সূত্র জানায়, বুধবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে লেবাননের লিটানি নদীর তীরবর্তী এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন ৩৬তম ডিভিশনের ডেপুটি কমান্ডার, তার অগ্রবর্তী কমান্ড টিম এবং একদল সেনা। এ সময় তারা হিজবুল্লাহর পেতে রাখা বিস্ফোরক ডিভাইসের মুখোমুখি হলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
এই বিস্ফোরণে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন কর্ণেল পদমর্যাদার ডেপুটি ডিভিশন কমান্ডার, ৫৫৬তম ট্রান্সপোর্ট রেজিমেন্টের একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং আরও এক রিজার্ভ কর্মকর্তা। এদের অবস্থা মাঝারি থেকে আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া একজন নিয়মিত সেনা, দুইজন রিজার্ভ সেনা এবং একজন নারী সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহত আলেকজান্ডার ফিলিনের জীবনগাথাও আলোচিত। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি ইউক্রেন থেকে একা ইসরায়েলে পাড়ি জমান। ২০১৬ সালে সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের কাছে এক হামলা প্রতিহত করে সাহসিকতার পরিচয় দেন। এ ঘটনার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে তিনি দেশটির ‘প্রেসিডেন্টস অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সেলেন্স’ লাভ করেন।
ঘটনার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী লিটানি নদী সংলগ্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক কামান হামলা শুরু করে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ অঞ্চলের কাফর তেবনিট গ্রামের কাছে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে। এতে একজন নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি বাহিনী।
এছাড়া হিজবুল্লাহর পৃথক ড্রোন হামলায় আরও পাঁচ ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে ইসরায়েল একটি রকেট লঞ্চার ধ্বংসের দাবি করে, যেটি দিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ এ ধরনের কোনো চুক্তি মেনে নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যা নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।