সারাবিশ্ব

ইরানের সেতু ও রেলস্টেশনে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, নিহত ৭


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

ইরানের সেতু ও রেলস্টেশনে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, নিহত ৭
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইরান। টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, ইরানশাহর ও বন্দর-এ-খামির এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে এই অভিযান শুরু হয় এবং এর লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর-এ-খামির সেতুতে চালানো হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং নয়জন আহত হন।

সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর জেরে এক সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে তারা প্রতিরোধ করেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং আরেকটিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি কুয়েত ও জর্ডানেও হামলার দাবি করা হয়েছে। কুয়েত জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে পাল্টা আক্রমণ আরও নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। একই সঙ্গে আরেক সামরিক মুখপাত্র জানান, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনবেন। তবে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের প্রতিরক্ষা জোরদার করাই এখন তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার।