সারাবিশ্ব

স্পেনের ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

স্পেনের ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ে লড়াই জমে ওঠে, যেখানে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্প্যানিশরা।

ম্যাচ শেষে স্পেন দলের খেলোয়াড়রা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গ্রহণ করেন।

এই জয়ের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনজুড়ে দেখা যায় আনন্দের অভূতপূর্ব জোয়ার। গাজা উপত্যকায় বিদ্যুৎ না থাকায় খোলা জায়গা, তাঁবু কিংবা অস্থায়ী ক্যাফেতে বড় পর্দা টাঙিয়ে শত শত মানুষ একসঙ্গে খেলা উপভোগ করেন। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্প্যানিশ পতাকা হাতে উল্লাসে মেতে ওঠে তরুণ ও শিশুরা।

ফিলিস্তিনিদের কাছে স্পেনের এই জয় শুধুমাত্র একটি ফুটবল সাফল্য নয়; বরং এটি তাদের প্রতি স্পেনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও মানবিক সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপ জয়ের এই খবরে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজকে অভিনন্দন জানান। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও এই জয়কে স্বাগত জানায়। পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে স্প্যানিশ ও ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে বের হয় বিজয় মিছিল।

এদিকে ফিলিস্তিনি শিল্পীরাও তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন সৃজনশীলভাবে। প্রখ্যাত কার্টুনিস্টরা স্প্যানিশ তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালসহ অন্যান্য খেলোয়াড়দের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে ধরে দুই দেশের সংহতির প্রতীক তুলে ধরেন।

ফিলিস্তিনের প্রতি স্পেনের দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানই এই উচ্ছ্বাসের অন্যতম কারণ। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনের জন্য সহায়তা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় মাদ্রিদ।

অন্যদিকে, ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারও ফিলিস্তিনিদের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। যদিও ইসরাইলি মহল স্পেনের পরাজয় প্রত্যাশা করেছিল, শেষ পর্যন্ত স্পেনের জয় যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি ও আনন্দ এনে দেয়।