সারাবিশ্ব

বিতর্ক পেরিয়ে ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ পাস, শঙ্কায় শ্রমজীবী আমেরিকানরা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৫, ১২:৫০ পিএম

বিতর্ক পেরিয়ে ট্রাম্পের ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ পাস, শঙ্কায় শ্রমজীবী আমেরিকানরা
ছবি: সংগৃহীত

টানা ২৯ ঘণ্টার বিতর্কের পর মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে মাত্র চার ভোটের ব্যবধানে পাস হলো সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচিত কর ও ব্যয়সংকোচন সংক্রান্ত ‘বিগ বিউটিফুল বিল’। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বিলটি ২১৮-২১৪ ভোটে পাস হয় প্রতিনিধি পরিষদে।

ডেমোক্রেটিক পার্টির ২১২ জন সদস্যই বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দেন। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির দুই সদস্যও এর বিরোধিতা করেন। তা সত্ত্বেও বিলটি সামান্য ব্যবধানে পাস হয়ে যায়। এর আগে ১ জুলাই সিনেটেও বিলটি ৫১-৫০ ভোটে অনুমোদন পেয়েছিল, যেখানে ভাইস প্রেসিডেন্টের টাই–ব্রেকিং ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিলটি নিয়ে রিপাবলিকান দলেও প্রবল বিরোধিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা কংগ্রেসে অনুমোদন পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার দলের সিনিয়র নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিলটিতে স্বাক্ষর করবেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউস সূত্র।

তবে এই বিল ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আইনে পরিণত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন যুক্তরাষ্ট্রের দরিদ্র, নিম্ন আয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষরা। কারণ বিলটির মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের হার কমিয়ে দেওয়া হবে, যার প্রভাব পড়বে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য সহায়তা ও গৃহহীনদের কল্যাণমূলক খাতগুলোর ওপর।

ডেমোক্রেটদের অভিযোগ, এই বিল কর্পোরেট ও ধনী শ্রেণিকে কর ছাড় দিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর বোঝা চাপানোর কৌশল। অপরদিকে ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা বলছেন, এটি বাজেট ঘাটতি কমাতে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে।

‘বিগ বিউটিফুল বিল’-কে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনীতিতে ফের বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে তা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বড় আইন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তার ২০২8 সালের নির্বাচনী পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।