সারাবিশ্ব
সুদানে জানাজার সময় হামলা, নিহত ৪০
সুদানের উত্তর করদোফান রাজ্যের এল-ওবেইদ শহরে এক জানাজায় হামলায় অন্তত ৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। জাতিসংঘ মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় সংস্থার সূত্রে জানা যায়, ওই হামলা ঘটেছে সরকারপন্থী সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এল-ওবেইদে, তবে হামলাকারীদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনায় করদোফান অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে বলে জানান জাতিসংঘের কর্মকর্তারা।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, “এমন পরিস্থিতিতে আমরা সব পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার জন্য অনুরোধ করছি।”
এল-ওবেইদ শহরের তেলসমৃদ্ধ করদোফান অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। গত সপ্তাহে আরএসএফ বাহিনী এল-ওবেইদ শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত বারা শহরটি দখল করে নিলে হাজার হাজার মানুষ এল-ওবেইদে পালিয়ে আসেন। একই সময়ে, সেনাবাহিনীর প্রত্যাহারের পর আরএসএফ বাহিনী উত্তর দারফুর রাজ্যের এল-ফাশের শহরও দখল করে নিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যে জানা যায়, সংঘাতের ফলে ৭০,০০০ জনেরও বেশি মানুষ এল-ওবেইদ এবং আশপাশের এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। মানবাধিকার সংগঠন এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আরএসএফ বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা, যৌন সহিংসতা এবং গণহত্যার মতো অত্যাচারের অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, ২০২৩ সালে সুদানি সেনাবাহিনী (এসএএফ) এবং আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সুদান আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাতিসংঘের মতে, এই সংঘাত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে লক্ষাধিক মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
অন্যদিকে, সুদানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হাসান কাবরুন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পরও সেনাবাহিনী আরএসএফের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।