সারাবিশ্ব
লেবাননে আবারও ইসরায়েলি বিমান হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা
দক্ষিণ লেবাননে আবারও একাধিক দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। হিজবুল্লাহর সঙ্গে গত বছরের যুদ্ধবিরতি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির বরাতে আল জাজিরা জানায়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান মাউন্ট সাফি, জাবা শহর, জেফতা উপত্যকা এবং আজ্জা–রুমিন আরকির মধ্যবর্তী এলাকায় টানা হামলা চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক্সে দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকটি স্থাপনা ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে রাদওয়ান ফোর্সের জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ অপারেশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কয়েকটি ভবন এবং একটি রকেট লঞ্চিং সাইট রয়েছে।
হামলার এই ধারাবাহিকতা এমন সময় দেখা দিল যখন ইসরায়েল ও লেবানন উভয় দেশই যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণকারী সামরিক কমিটিতে বেসামরিক প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, তার দেশ আলোচনার পথেই এগোতে চায় এবং লক্ষ্য হচ্ছে ইসরায়েলের চলমান হামলা বন্ধ করা।
জাতিসংঘের নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে লেবাননে কমপক্ষে ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে শিশু রয়েছে, নিহত হয়েছে।
গত সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণে বোমা হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক নেতা হাইথাম আলী তাবতাবাইকে হত্যা করে। সংগঠনটি এখনও এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইসরায়েলের অভিযোগ, লেবানন হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এ অভিযোগ নাকচ করে বলেন, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার মাধ্যমেই উভয় পক্ষের কার্যক্রম যথাযথভাবে তত্ত্বাবধান করা সম্ভব।