সারাবিশ্ব

এই ১ম পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সে চালু হলো সংস্কৃত, পড়ানো হবে গীতা-মহাভারতও


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১০ পিএম

এই ১ম পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সে চালু হলো সংস্কৃত, পড়ানো হবে গীতা-মহাভারতও
ছবি: সংগৃহীত

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর এই প্রথম পাকিস্তানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কোর্সে অন্তর্ভুক্ত হলো প্রাচীন ভাষা সংস্কৃত। লাহোরের লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ এ সম্মান (অনার্স) স্তরের একটি চার-ক্রেডিট কোর্স হিসেবে এটি চালু করা হয়েছে।

এই কোর্সের পাঠ্যক্রমে সংস্কৃত ভাষা ও ব্যাকরণের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় মহাকাব্য গীতা, রামায়ণ, মহাভারত এবং অন্যান্য সংস্কৃত সাহিত্য পড়ানো হবে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এলইউএমএস-এর এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ফরমান ক্রিশ্চিয়ান কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহীদ রশীদ, যিনি নিজেই অনলাইনে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংস্কৃত ভাষা শিখেছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, "অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন—কেন সংস্কৃত শিখছি? আমি বলি, কেন শিখব না? এটি আমাদের উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ভাষা। সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ পাণিনির গ্রাম এই অঞ্চলেই ছিল। এটি একটি সাংস্কৃতিক স্মৃতিস্তম্ভ এবং আমাদের এটি গ্রহণ করা প্রয়োজন। সংস্কৃত কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সম্পত্তি নয়, এটি সম্পদ এবং এই সম্পদ আমাদেরও।"

এলইউএমএস-এর অধীন গুরমানি সেন্টারের পরিচালক ড. আলী উসমান কাশমি জানান, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তালপাতায় লেখা পুঁথিসহ সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য সংক্রান্ত বইয়ের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যা ১৯৪৭ সালের পর কোনো পাকিস্তানি গবেষক ব্যবহার করেননি।

ড. কাশমি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে পাকিস্তান থেকেই গীতা ও মহাভারতের বিশেষজ্ঞ গবেষক তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে তিন মাসের একটি কর্মশালা হিসেবে শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের বিপুল আগ্রহ দেখে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সে পরিণত করা হয়েছে।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার সম্মিলিত বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার একটি অঙ্গীকার তুলে ধরছে।