সারাবিশ্ব
বিয়ে করলেই ২৫ লাখ, প্রেম করলে ৪২ হাজার টাকা দেবে সরকার
জনসংখ্যা হ্রাসের রেকর্ড গড়েছে পূর্ব এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটিতে নবজাতকের সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে এবং এক-তৃতীয়াংশ নারীই এখন আর বিয়ে করতে আগ্রহী নন। এই ভয়াবহ জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় এবার অদ্ভুত কিন্তু আকর্ষণীয় সব পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।
এখন থেকে নাগরিকরা প্রেম বা ডেটিং করলে এবং বিয়ে করলে সরকার থেকে সরাসরি মোটা অঙ্কের আর্থিক অনুদান পাবেন।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ায় জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, কর্মক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত চাপ এবং সন্তান লালন-পালনের ঝক্কি এড়াতে তরুণ প্রজন্ম বিয়ে ও পরিবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ২০২৩ সালে দেশটির প্রজনন হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৭২, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই গতি চলতে থাকলে একসময় পৃথিবীর মানচিত্র থেকে দেশটির অস্তিত্ব মুছে যেতে পারে।
১৯৬০ সালে যেখানে কোরিয়ান নারীদের গড়ে ৬টি সন্তান ছিল, বর্তমানে তা ১-এর নিচে নেমে এসেছে। মূলত গৃহকর্মের প্রতি অনীহা এবং কর্মব্যস্ত জীবনের কারণে ৯৩ শতাংশ নারীই পরিবার গঠনে অনীহা প্রকাশ করেছেন। এই সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়া ঠেকাতে দক্ষিণ কোরিয়া এখন টাকা দিয়ে নাগরিকদের মন পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ডেটে যাওয়ার জন্য প্রেমিক-প্রেমিকাকে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত দেবে দেশটির সরকার। সরকারি সহায়তা শুধুমাত্র প্রেম বা ডেটে যাওয়ার জন্য থেমে নেই। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন যদি তাদের মা-বাবারা দেখা করেন, তবে সেই খরচও আলাদাভাবে বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
জানা গেছে, দক্ষিণ কোরীয় কোনও যুগল যদি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাহলেও মোটা টাকা আর্থিক সাহায্য দিতে রাজি সরকার। বিবাহে ইচ্ছুক প্রেমিক-প্রেমিকাকে বিয়ের জন্য সে দেশের সরকারের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে।
এছাড়াও সন্তানধারণের জন্যও দম্পতিদের অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করা হয়। সরকারের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি তীব্র আকার ধারণ করায়, কোনও দম্পতি যেন সন্তান ধারণ থেকে বিরত না থাকেন, সে কারণেই এ সিদ্ধান্ত।