সারাবিশ্ব

তেহরানে দমন-পীড়নে রক্তপাত, এক রাতেই নিহত দুই ২০০ বিক্ষোভকারী


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২১ পিএম

তেহরানে দমন-পীড়নে রক্তপাত, এক রাতেই নিহত দুই ২০০ বিক্ষোভকারী
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলন গত বুধবার থেকে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে এখন স্পষ্টভাবে উঠে আসছে সরকার পতনের দাবি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ চেয়ে তারা স্লোগান দিচ্ছেন- ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’।

রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি কোম, ইসফাহান, মাশহাদ, বান্দার আব্বাস, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এই আন্দোলন। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করছে। কোথাও কোথাও দেশের জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলতেও দেখা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা দেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সরকার আর কোনো ছাড় দেবে না। এর পরপরই দেশটির অভিজাত বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, চলমান অস্থিরতা আর বরদাশত করা হবে না।

এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযান শুরু করে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। সহিংস বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে শুধু রাজধানী তেহরানেই এক রাতের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০০ জনের বেশি মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক চিকিৎসকের তথ্যমতে, শহরের ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২০৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ ছিলেন।

টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই তথ্য সঠিক হলে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই বিক্ষোভ দমনে কঠোর পথে হাঁটছে ইরান সরকার। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড চালালে খামেনি সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই আন্দোলন ইতোমধ্যে ইরানের অন্তত ৩১টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর শুক্রবার রাতেও তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

ওই চিকিৎসক টাইম ম্যাগাজিনকে আরও জানান, শুক্রবার হাসপাতালগুলো থেকে নিহতদের মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান দিয়ে ব্রাশফায়ার করা হয়, যেখানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন। নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ।

তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন।

এদিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত। যারা একে ধ্বংস করতে চায়, তাদের কাছে ইরান কখনো মাথা নত করবে না।’ তিনি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করার অভিযোগও করেন।

এ ছাড়া তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউট ঘোষণা দিয়েছেন, যারা নাশকতা বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহিংসতায় জড়াবে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড—দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নতুন করে ইরান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘গুলি চালানো শুরু কোরো না। যদি তা করো, তাহলে আমরাও পাল্টা ব্যবস্থা নেব। আমি শুধু চাই, ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকুক, কারণ পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক।’