সারাবিশ্ব

বিয়ের মাত্র ৪৮ ঘন্টা পরই দেয়াল ধসে স্ত্রীকে হারালেন গাজার শ্রবণপ্রতিবন্ধী আহমেদ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

বিয়ের মাত্র ৪৮ ঘন্টা পরই দেয়াল ধসে স্ত্রীকে হারালেন গাজার শ্রবণপ্রতিবন্ধী আহমেদ
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ আর মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হওয়া গাজায় প্রতিটি পাথর যেন এক একটি শোকগাথা। এমনই এক বুকফাটা গল্প গাজার শ্রবণপ্রতিবন্ধী যুবক আহমেদ আবু সাদার। বিয়ের রঙিন সাজ মোছার আগেই ইসরায়েলি বিমান হামলায় ভেঙে পড়া দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন তার নববিবাহিতা স্ত্রী।

যেখানে চারদিকে ধ্বংসস্তূপ আর মৃত্যুর মিছিল, সেখানে একটু সুখের আসায় ঘর বেঁধেছিলেন ২০ বছরের তরুণ আহমেদ আবু সাদা। কিন্ত গাজার এই নিষ্ঠুর বাস্তবতায় সেই সুখ স্থায়ী হয় মাত্র ৪৮ ঘন্টা। আহমেদ আবু সাদা শ্রবণপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও জীবনের সব প্রতিকূলতাকে জয় করতে চেয়েছিলেন।

ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে পূর্ব গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় তাদের নিজেদের বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর সপরিবারে তারা বাস্তুচুত হন। চরম অভাব আর অনিশ্চয়তার মাঝেও গত ২৭ ডিসেম্বর ওয়ালা জাহা-র সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আহমেদ। বিয়ের ২ দিন পর অর্থাৎ, ২৯ ডিসেম্বর গাজার উপর দিয়ে বয়ে যায় ঝড়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বিয়ের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় ইসরায়েলি বিমান হামলার আঘাতে ধসে পড়ে তাদের ঘরের দেয়াল। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার স্ত্রী ওয়ালার। 

বুকফাটা আর্তনাদ আহমেদ নিজে শ্রবণপ্রতিবন্ধী হওয়ায় হামলার ভয়াবহ শব্দ শুনতে পাননি, কিন্তু চোখের সামনে ধুলোয় মিশে যেতে দেখেছেন নিজের সাজানো সংসার। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যখন তার স্ত্রীকে উদ্ধার করা হয়, ততক্ষণে সব শেষ। বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় কবরের নিস্তব্ধতায়।

আহমেদের বাবা সাদ আল-দিন আবু সাদা জানান, সেই রাতের পর থেকে আহমেদ কেমন হয়ে গেছেন, সারাদিন বিছানায় শুয়ে মোবাইলে বিয়ের ছবিগুলো দেখেন আর নীরবে চোখের জল ফেলেন। আহমেদ যে তোশখে ঘুমান, তাতে এখনও তার বউয়ের রক্তের দাগ লেগে আছে। মানসিক বড় ধাক্কার কারণে তিনি আর কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

গাজার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আহমেদের নির্বাক কান্নার ছবি ও ভিডিও এখন ভাইরাল। যেখানে কোনো শব্দ নেই, আছে শুধু প্রিয়তমাকে হারানোর এক গভীর হাহাকার। গাজার হাজারো মানুষের মতো আহমেদের জীবনের গল্পও এখন দীর্ঘ এক দীর্ঘশ্বাসের নাম।