সারাবিশ্ব
আগামী সপ্তাহ থেকেই বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা স্থগিত
আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করতে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, পারিবারিক পুনর্মিলন ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এ স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে এবং পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বলবৎ থাকবে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা এখন থেকে ‘পাবলিক চার্জ’ আইনের আওতায় আবেদনকারীদের ভিসা আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করবেন। কেউ ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারের সামাজিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন- এমন আশঙ্কা থাকলে আবেদন সরাসরি বাতিল করার সুযোগ থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও চিকিৎসা ভিসাপ্রত্যাশীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এসব আবেদন দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে পারে।
নতুন নিয়মে কারা ভিসা পাবেন না?
‘পাবলিক চার্জ’ আইন অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন সরকার থেকে ভাতা বা অন্যান্য সামাজিক সুবিধা নিতে পারে বলে মনে করা হয়, তবে তার ভিসা বাতিল করা যাবে। নতুন নির্দেশনায় বিবেচনা করা হবে বয়স, স্বাস্থ্য, ইংরেজি দক্ষতা, আর্থিক অবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন কি না - এমন নানা বিষয়।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগগট বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে দেখব কোনো বিদেশি নাগরিক মার্কিন সমাজে অতিরিক্ত সাহায্যের ওপর নির্ভর হতে পারেন কি না। যারা হবেন বলে মনে হবে, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে।’
বছরের প্রথম দিকে ট্রাম্প প্রশাসন এক লক্ষাধিক ভিসা বাতিল করেছিল। নতুন স্থগিতাদেশে কেবলমাত্র ‘সীমিত ক্ষেত্রে’ ছাড় দেয়া হবে, যেখানে আবেদনকারী পাবলিক চার্জের শর্ত পুরোপুরিভাবে পাস করবে।
২০০২ সালের বিধি অনুযায়ী কনস্যুলাররা পাবলিক চার্জের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। তবে ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতিকে বিস্তৃত করেছিল, পরে বাইডেন প্রশাসন সেই পরিবর্তন কিছুটা বাতিল করেছিল। এবার পুনঃমূল্যায়নের জন্য ৭৫ দেশের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করা হলো।
স্থগিতাদেশে থাকা দেশগুলো:
আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগা ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভূটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, ক্যাম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ডমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডা, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।