সারাবিশ্ব

ভারত ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার: শি জিনপিং


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

ভারত ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার: শি জিনপিং
ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা দিয়েছেন। ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে ভারতকে তিনি অভিহিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সি এ তথ্য জানায়।

শি জিনপিং বলেন, ‘গত এক বছরে চীন–ভারত সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নত ও বিকশিত হয়েছে, যা বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং এগিয়ে নেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন সবসময় বিশ্বাস করে ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার হওয়াই চীন ও ভারতের জন্য সঠিক পথ।’

চীন–ভারত সম্পর্ককে রূপকভাবে ‘ড্রাগন ও হাতির একসঙ্গে নাচ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় দেশ পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে একে অপরের উদ্বেগ সমাধান করে সুস্থ ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রায় চার বছর ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে এশিয়ার দুই বৃহত্তম দেশ। ২০২০ সালে সীমান্ত সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই ঘটনার পর চীনা মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক নিষিদ্ধ করে ভারত। পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগে আরোপ করা হয় বিধিনিষেধ।

দুই দেশের বাণিজ্য রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ভারত–চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া, পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর গত বছরের অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলও পুনরায় চালু হয়।

পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা পুরোপুরি নির্ধারিত নয় এবং ১৯৫০-এর দশক থেকে বিতর্কিত। ২০২০ সালে সীমান্ত সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় ও কয়েকজন চীনা সেনা নিহত হওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর হিমালয় অঞ্চলে উভয় দেশই সামরিক উপস্থিতি বাড়ায়।

তবে গত বছর থেকে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফরের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক নীতির প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দেয় চীন ও ভারত।