সারাবিশ্ব

লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হিজবুল্লাহর


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ এএম

লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হিজবুল্লাহর
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। সীমান্তবর্তী তাল আল-নাহাস এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানবাহনকে লক্ষ্য করে এই আঘাত হানা হয়।

গোষ্ঠীটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, কফর কিলা গ্রামের উপকণ্ঠে মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি বাহিনীর একটি সমাবেশকে লক্ষ্য করে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাতে তাদের একজন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও হতাহতের নির্দিষ্ট ঘটনার সময় বা প্রেক্ষাপট জানানো হয়নি।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই তারা এসব হামলা চালিয়েছে। গত রবিবারও তারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিক আক্রমণ পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরান-এ বিমান হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর দুই দিন পর আন্তঃসীমান্ত হামলার জেরে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে।

বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও সীমান্ত এলাকায় প্রতিনিয়ত পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে হিজবুল্লাহ আবারও তাদের সামরিক সক্রিয়তার বার্তা দিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলও তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবানন কার্যত একটি অস্থিতিশীল সংঘাত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যেখানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শান্তি এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি