সারাবিশ্ব

মোদি যাকে ‘দুর্নীতিবাজ’ বলেছিলেন, ১০ বছর পর সেই শুভেন্দুই মুখ্যমন্ত্রী


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

মোদি যাকে ‘দুর্নীতিবাজ’ বলেছিলেন, ১০ বছর পর সেই শুভেন্দুই মুখ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছে তার বিরুদ্ধে ওঠা পুরোনো ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিও, যেখানে তাকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

ভিডিওটি প্রকাশ করেছিল নারদ নিউজ। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীসহ তৃণমূল কংগ্রেস-এর কয়েকজন নেতাকে টাকার বিনিময়ে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন ঘটনায় কয়েক লাখ রুপি পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে।

২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে ওই ভিডিওকে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

তবে পরে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর দলটির বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে ওই ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয় বলে সমালোচকদের দাবি।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভিডিওটি আবার ভাইরাল হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নৈতিকতা ও আদর্শের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, যাকে একসময় দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, তাকেই এখন নেতৃত্বের আসনে বসিয়েছে বিজেপি।

ওই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা গ্রেফতার হলেও শুভেন্দু অধিকারীকে কখনও গ্রেফতার করা হয়নি। তৃণমূলের দাবি, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর তৎপরতা তার ক্ষেত্রে শিথিল হয়ে যায়।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন তাকে রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।

পরে ২০০৯ ও ২০১৪ সালে লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় পরিবহন ও সেচ দপ্তরের দায়িত্ব পান। তবে সময়ের সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে।

অবশেষে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর অমিত শাহর উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসেন তিনি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধান মুখ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই পুরোনো বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।