সারাবিশ্ব

মানহানির মামলায় ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম

মানহানির মামলায় ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে আট বছর আগে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন দিল্লির একটি আদালত। বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সেলের সদস্য বিকাশ পান্ডের দায়ের করা এ মামলায় আদালতের সমন জারি করতে গিয়ে রাঠীর বাসভবন তালাবদ্ধ পাওয়ায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (তারিখ নিশ্চিত করা প্রয়োজন) দিল্লির সাকেত আদালতের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল জৈন এ পরোয়ানা জারি করেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ৩১ অক্টোবর।

মামলার নথি অনুযায়ী, ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট ২’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যা বিকাশ পান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে। এ অভিযোগে ২০১৮ সালে মামলাটি দায়ের করা হয়। বিকাশ পান্ডে ‘আই সাপোর্ট নরেন্দ্র মোদী’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজের প্রতিষ্ঠাতা। তার দাবি, ভিডিওটির মাধ্যমে তাকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে ধ্রুব রাঠীর কাছে সরাসরি সমন পৌঁছে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীকে সমন বহনকারী ব্যক্তির সঙ্গে যাওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়। তবে আদালতের প্রতিনিধি রাঠীর বাসায় গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ পান। ফলে তার কাছে সমন পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্ত নেন।

মামলাটির সঙ্গে আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নামও জড়িয়ে রয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি ধ্রুব রাঠীর ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিটুইট করেছিলেন। বিকাশ পান্ডের অভিযোগ, ভিডিওটি শেয়ার করার মাধ্যমে তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার ঘটনায় কেজরিওয়ালেরও ভূমিকা ছিল। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মানহানির আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেজরিওয়াল ভারতের সুপ্রিম কোর্টে জানান, ভিডিওটি রিটুইট করা তার ভুল ছিল। সে সময় বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে জারি করা সমন বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মানহানিকর বলে অভিযোগ ওঠা কোনো বক্তব্য বা বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিটুইট করাও ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার আওতায় আইনি পদক্ষেপের কারণ হতে পারে। তবে এ ধরনের মামলায় অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।

অন্যদিকে, ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, রাঠী দীর্ঘ সময় ভারতের বাইরে অবস্থান করায় তার কাছে সমন পৌঁছানোসহ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। সর্বশেষ পরোয়ানা জারির পর ৩১ অক্টোবরের শুনানিতে মামলাটির পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

উল্লেখ্য, জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অর্থ এই নয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এটি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অভিযুক্তকে হাজির করার একটি আইনি পদক্ষেপ। মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।