সারাবিশ্ব

হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বন্ধ করছে ইরান  


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম

হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বন্ধ করছে ইরান  
ছবিঃ সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার পর এবার লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও বন্ধের হুমকি সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে তেহরান সংঘাতের পরিধি আরও বাড়াতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির পর এবার বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথে চাপ সৃষ্টির কৌশলের অংশ হিসেবে ইরান এ পদক্ষেপ নিতে পারে।

ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি ইয়েমেনভিত্তিক হুথি গোষ্ঠীর তৎপরতাও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তেহরান এখন সংঘাতের বিস্তৃতি ঘটিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর কৌশলগত চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে ইতোমধ্যে নিজেদের কৌশলগত সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। এবার লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব-এল-মান্দেব প্রণালিকেও চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই পরিচালিত হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তাদের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন হুথি আন্দোলন আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ইয়েমেনে হামলা চালাতে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে এতে ওয়াশিংটনের কৌশলগত লক্ষ্য সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আল-ফারাহ আরও বলেন, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে হরমুজ ও বাব-এল-মান্দেব—দুই প্রণালিই একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এমন হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার হলেও, সংঘাত আরও বিস্তৃত করতে বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফাওয়াজ গেরগেস রয়টার্সকে বলেন, ইরান প্রয়োজনে সংঘাতকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত। তার মতে, তেহরান ওয়াশিংটনকে বোঝাতে চাইছে যে, তারা চাইলে একই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহনপথকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এর ফলে সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।