সারাবিশ্ব
ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ ধ্বংস করতে গিয়ে প্রাণ গেল মার্কিন সেনার
ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ ধ্বংস করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক মার্কিন সেনাসদস্য। এ সময় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে আরও একজন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। সংস্থাটি জানায়, উত্তর ইরাকে পড়ে থাকা একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই এক সেনা নিহত হন। তবে নিহতের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
একই ঘটনায় আহত অপর সেনার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে, ১৭ জুলাই জর্ডানে ইরানের হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অবশিষ্টাংশ শনাক্তে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলেও জানায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
এদিকে টানা অষ্টম রাতেও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
এক মাস আগে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার তীব্রতা বেড়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরেও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
চলমান এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতির নতুন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তুলনামূলক কম খরচে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করতে পারায় সংঘাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে শাহেদ মডেলের ড্রোনগুলো স্বল্প ব্যয়ে তৈরি হওয়ায় এগুলোর ব্যাপক ব্যবহার বাড়ছে।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে সিরিক, শাদেগান ও আবাদান এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, দারখোভিনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ তুলেছে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা, যারা জানিয়েছে কেন্দ্রটি এখনও নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনেও ইরানের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি উঠেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার ফলে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, যা বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত।
একই সময় জর্ডানজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ভূপাতিত করেছে এবং ঘটনার প্রতিবাদে ইরানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।