সারাবিশ্ব

হুতি হামলার ক্ষতিপূরণ ইরানের জব্দ অর্থ থেকেই দেওয়া হবে: ট্রাম্প


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ এএম

হুতি হামলার ক্ষতিপূরণ ইরানের জব্দ অর্থ থেকেই দেওয়া হবে: ট্রাম্প
ছবিঃ সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার জেরে লোহিত সাগর ও আশপাশের অঞ্চলে জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, হুতি হামলায় জাহাজ ও কার্গোর যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের জব্দ করা অর্থ থেকে দেওয়া হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “এখন থেকে জাহাজ, কার্গো বা এ-সংক্রান্ত যেকোনো ক্ষতির ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অর্থ থেকেই দেওয়া হবে। ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে, তবে এটিই ন্যায্য ও সঠিক পদক্ষেপ।”

তবে ক্ষতিগ্রস্ত শিপিং কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থ পরিশোধ করবে নাকি অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে—এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যেই ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ইরানের প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার জব্দ রয়েছে। এছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের ২৪ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ আটকে আছে বলে ধারণা করা হয়।

উল্লেখ্য, গত জুনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেখানে জব্দ অর্থ ছাড়, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ ছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ইরানের জব্দ অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার শিকার ব্যক্তিরা বহু বছর ধরে ওই অর্থ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।