সারাবিশ্ব
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নতুন কর্মসূচির পথে ককরোচ জনতা পার্টি
টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আদায় করে আলোচনায় আসা ককরোচ জনতা পার্টি (কেজেপি) এবার তাদের পরবর্তী রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি নির্ধারণে বৈঠকে বসছে।
আগামী বুধবার মহারাষ্ট্রের সম্ভাজিনগরে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বাসভবনে শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সাম্প্রতিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থী-তরুণদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ কৌশল চূড়ান্ত করা হবে। দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
শিক্ষাপ্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, যা পূরণ হওয়ার পর আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
আন্দোলন শেষে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক জানান, নতুন কর্মসূচি ঘোষণার আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের মতামত সংগ্রহ করা হবে। সেই মতামতের ভিত্তিতেই সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীদের কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
তবে সংগঠনটিকে ঘিরে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও ককরোচ জনতা পার্টি কেন সব ক্ষেত্রে একইভাবে আন্দোলনে নামেনি—এ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবের ঘটনায় সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এ বিষয়ে অভিজিৎ দীপক বলেন, ওই ঘটনাগুলোও তাদের নজরে রয়েছে এবং সময়মতো এ বিষয়ে অবস্থান জানানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনের পেছনে শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়, বরং তরুণদের দীর্ঘদিনের বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিজনিত অসন্তোষও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে এখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—ককরোচ জনতা পার্টি কি তাদের আন্দোলনকে শুধু শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবে, নাকি কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি ও তরুণদের অন্যান্য দাবিকেও নতুন কর্মসূচির অংশ করবে।
সব মিলিয়ে বুধবারের বৈঠক এবং পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের। সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সেখানেই স্পষ্ট হতে পারে।