সারাবিশ্ব
কেনিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইকুয়েডরের গোয়েন্দাপ্রধানসহ নিহত ৭
পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ইকুয়েডরের গোয়েন্দাপ্রধান মিশেল সেনসি-কনটুজি ও তার স্ত্রীসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
বুধবার (১৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে কেনিয়ার সামবুরু কাউন্টিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটিতে থাকা সাতজনের কেউই দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে পারেননি।
কেনিয়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি লইসাবার একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা থেকে ইওয়াসো নিয়িরো নদীর দিকে যাচ্ছিল। সামবুরু কেনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। অঞ্চলটিতে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা রয়েছে এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও এটি পরিচিত।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ছবিতে ওলোলোকওয়ে পর্বতের জঙ্গলের মধ্যে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। কেনিয়া রেড ক্রসের সদস্যরা তখনও ঘটনাস্থলে থাকা জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের কাছে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিলেন।
নিহত ইকুয়েডরের গোয়েন্দাপ্রধান মিশেল সেনসি-কনটুজির বয়স ছিল ৪৪ বছর। ২০২৪ সালে তাকে দেশটির কৌশলগত গোয়েন্দা কেন্দ্রের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুর বিষয়ে ইকুয়েডর সরকার বিস্তারিত তথ্য না দিলেও প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট গিলের্মো লাসোও তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান লেডি লরি হেলিকপ্টারস এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
এদিকে নিহত মার্কিন নাগরিকদের একজন ছিলেন এনবিসি ইউনিভার্সালের সাংবাদিক হোসে আলবার্তো সুয়ারেজ। প্রতিষ্ঠানটির এক অভ্যন্তরীণ স্মারকে তাকে অত্যন্ত সম্মানিত নেতা ও প্রিয় সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিহতদের মধ্যে মিয়ামির রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী রজার দুয়ার্তের নামও এসেছে। তার মৃত্যুতে মার্কিন প্রতিনিধি কার্লোস আন্তোনিও গিমেনেজ শোক প্রকাশ করেছেন। তবে নিহত অন্য মার্কিন নাগরিকদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হেলিকপ্টারটিতে ছয় পর্যটক ও একজন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
কেনিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নান্দি কাউন্টির রিফট ভ্যালি এলাকায় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দেশটির একজন সংসদ সদস্যও ছিলেন।
এর আগে ২০২৪ সালে কেনিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ওমন্ডি ওগোল্লা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন। ১১ জন আরোহী নিয়ে উড্ডয়ন করা সামরিক হেলিকপ্টারটি দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বিধ্বস্ত হলে দুজন ছাড়া সবাই মারা যান।
২০২১ সালের জুনেও রাজধানী নাইরোবির কাছে অবতরণের সময় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১০ সেনা নিহত হয়েছিলেন।