সারাবিশ্ব

কিমের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ ট্রাম্পের, জবাবে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

কিমের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ ট্রাম্পের, জবাবে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে আবারও বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবে এখন পর্যন্ত ঠান্ডা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে পিয়ংইয়ং। এর মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া।

শুক্রবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম জং উনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে আলোচনার পথ তৈরি করতে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়াও কমিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।

চলতি বছরের শেষ দিকে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে চান ট্রাম্প। এ সম্মেলনকে ঘিরেই দুই নেতার বৈঠকের সম্ভাবনা দেখছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। তবে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসেনি বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দুই দেশের নেতার ব্যক্তিগত উষ্ণ সম্পর্ককে জাতীয় নিরাপত্তা বা সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন কেন্দ্রের গবেষক জেনি টাউনের মতে, মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এ ধরনের আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং দেশটিকে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে দেখার নীতি পরিবর্তন না করলে আলোচনা এগোনো কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ায় অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য এখন ওয়াশিংটনের ওপর পিয়ংইয়ংয়ের নির্ভরশীলতাও আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

এদিকে যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল একীকরণের গবেষক হংক মিনের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তারা আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছে না। বরং নিজেদের শর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নমনীয় করার কৌশল হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স