সারাবিশ্ব

মক্কা চুক্তির ‘ফাঁদে’ পাকিস্তান, যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

মক্কা চুক্তির ‘ফাঁদে’ পাকিস্তান, যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে পাকিস্তান। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় ইসলামাবাদের ওপর চুক্তির সামরিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ বাড়ছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। চুক্তির আওতায় সৌদি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডে হামলা হলে দেশটির প্রতিরক্ষায় পাকিস্তানি বাহিনী ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়। এর বিনিময়ে সৌদি আরব পাকিস্তানকে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়।

পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এবং এর জেরে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। একই সময়ে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি। সৌদি ভূখণ্ড ও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলাও বেড়ে যায়।

এরই মধ্যে গত আগস্টে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিধি বাড়িয়ে তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মক্কায় স্বাক্ষরিত নতুন চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে আক্রান্ত দেশকে সহায়তার ধরন পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে বলে তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় এই চুক্তি এখন বাস্তবে পরীক্ষার মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ইতোমধ্যে বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় হতে পারে।

তবে পাকিস্তানের জন্য সরাসরি ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া বড় ধরনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরে বড় শিয়া জনগোষ্ঠী রয়েছে। ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

এ ছাড়া পাকিস্তান একই সময়ে অর্থনৈতিক সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জঙ্গিবাদসহ একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বেলুচিস্তানের দীর্ঘদিনের অস্থিরতাও দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে রেখেছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের ওপর পাকিস্তানের অর্থনৈতিক নির্ভরতা দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি সৌদি আরব পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা ও বিনিয়োগ দিয়ে আসছে। ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা চাহিদা এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখা ইসলামাবাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

তবে এখন পর্যন্ত সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান বা তুরস্ককে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হলে পাকিস্তানকে সৌদি আরবের পাশে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর চাপ আরও বাড়তে পারে।