সারাবিশ্ব

২৩ বছর পর ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

২৩ বছর পর ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৩ বছর পর ইরাক থেকে নিজেদের অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ইরাকে থাকা শেষ মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকেও সেনারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে শুরু হওয়া দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটল।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছিল ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের বিদায়কে ইরান ও দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিজয় হিসেবে দেখছে।

২০০৩ সালে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী। ১৯ মার্চ শুরু হওয়া সেই অভিযানের কয়েক মাসের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার হন। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

সাদ্দাম হোসেনের পতনের পরও ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকে। পরে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করতে আবারও মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়। ২০১১ সালে এক দফা মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হলেও ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে তারা আবার ইরাকে ফিরে আসে।

সর্বশেষ ইরাকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা বিভিন্ন ঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, অর্থ সহায়তা ও বিভিন্ন ধরনের সামরিক সহযোগিতা দিয়ে এসেছে।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইরাকের অনেক মানুষের কাছে স্বস্তির বিষয় হলেও দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন সেনাদের চলে যাওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শূন্যতা তৈরি হলে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়তে পারে এবং ইসলামিক স্টেট আবারও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক।

ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, গত দুই দশকের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা হলো, নিরাপত্তাক্ষেত্রে কোনো শূন্যতা তৈরি হলে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

মার্কিন সেনাদের বিদায়ের পর ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। দুই দেশের মধ্যে সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান এবং অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র : রয়টার্স