সারাবিশ্ব

দিল্লিতে ব্রিকস সংসদীয় ফোরামে যাচ্ছেন না ইরানের স্পিকার গালিবাফ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ পিএম

দিল্লিতে ব্রিকস সংসদীয় ফোরামে যাচ্ছেন না ইরানের স্পিকার গালিবাফ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সংসদীয় ফোরামে অংশ নিচ্ছেন না ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির’ কথা উল্লেখ করে আগামী ২৬ ও ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই ফোরামে তার অংশগ্রহণ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। তবে স্পিকারের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও সংসদীয় প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে ফোরামের আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস জানায়, দেশটির ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির প্রধান গালিবাফ ভারত সফরে যাচ্ছেন না। তবে ঠিক কী কারণে তার সফর বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সফর বাতিলের পেছনে কোনো কূটনৈতিক জটিলতা কিংবা অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ভূমিকা রেখেছে কি না, সে বিষয়েও দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ইরানি দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, গালিবাফের অনুপস্থিতিকে ব্রিকস সংসদীয় ফোরাম থেকে ইরানের সরে দাঁড়ানো হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং দেশটির প্রতিনিধিরা ফোরামে অংশ নিয়ে অন্যান্য সদস্য ও অংশীদার দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সংসদীয় পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেবে তেহরান।

ফোরাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় ভারতের প্রশংসাও করেছে ইরানি দূতাবাস। একই সঙ্গে বৈঠক থেকে গঠনমূলক ও ইতিবাচক ফলাফল আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দেশটি। তবে গালিবাফের পরিবর্তে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব কে দেবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ফোরামে ইরানের প্রতিনিধিত্বের ধরন কেমন হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী এই ফোরামের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় বৈঠকের তারিখ নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর সংসদের স্পিকার, সভাপতিত্বকারী কর্মকর্তা, আইনপ্রণেতা এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। ফোরামটিতে বিভিন্ন দেশের আইনসভাগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। এ ছাড়া সফররত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের ফোরামের মূল প্রতিপাদ্য হলো-জনকেন্দ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংসদের ভূমিকা জোরদার করা। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উন্নয়নসংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনসভাগুলো কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

ফোরামের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে সংকট মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার, ডিজিটাল রূপান্তর, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন। এসব বিষয়ে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও নীতিগত অবস্থান বিনিময়ের মাধ্যমে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন প্রণয়ন এবং জনস্বার্থ সুরক্ষায় সংসদের ভূমিকা আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

এ ছাড়া ফোরামের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন। এসব বৈঠক সংসদীয় কূটনীতি জোরদার এবং সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। গালিবাফের সফর বাতিলের মধ্যেও ফোরামে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান সংসদীয় যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে।