সারাবিশ্ব

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত অন্তত ৪০


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত অন্তত ৪০
ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তারাবা অঙ্গরাজ্যের একটি গ্রামে বন্দুকধারীদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। তবে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৫। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত কারিম-লামিডো স্থানীয় সরকার এলাকার বিনারি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার পর সশস্ত্র ব্যক্তিরা বিনারি গ্রামে প্রবেশ করে স্থানীয় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। আকস্মিক এ হামলায় অনেক মানুষ হতাহত হন। হামলাকারীরা গ্রামজুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে বিভিন্ন বাড়িঘর ও দোকানে হামলা চালায়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, প্রাণ বাঁচাতে অনেক বাসিন্দা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে আশপাশের নিরাপদ এলাকায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, বন্দুকধারীদের এ হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। তবে তারাবা অঙ্গরাজ্য সরকার নিহতের সংখ্যা ২৫ বলে জানিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের দেওয়া তথ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে হামলায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, হামলা চালানোর পর সশস্ত্র ব্যক্তিরা গ্রাম থেকে খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ ও মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। এরপর তারা বিভিন্ন বাড়িঘর ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে বসতবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া বাসিন্দাদের অনেকেই এখন আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন তারাবা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর আগবু কেফাস। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। তবে গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অঙ্গরাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই গভর্নরের পুনর্নির্বাচন প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিষদের পক্ষ থেকে রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তাঁরা এ মর্মান্তিক ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ করে নিরাপত্তাঝুঁকিতে থাকা গ্রামীণ জনপদগুলোতে সুরক্ষা জোরদার করা এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা, অপহরণ, লুটপাট ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এসব সহিংসতায় বহু মানুষ প্রাণ হারানোর পাশাপাশি অসংখ্য পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। তারাবার বিনারি গ্রামের সাম্প্রতিক এ হামলা দেশটির নিরাপত্তা সংকটের ভয়াবহতাকে আবারও সামনে এনেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলার শিকার পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।