সারাবিশ্ব
ভারতের চিকেনস নেককে ‘হাতিতে’ পরিণত করার হুমকি দিলেন আধ্যাত্মিক গুরু
ভারতের শিলিগুড়ি করিডর, যা ঐতিহাসিকভাবে ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, এবার কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে বিতর্কিত এক মন্তব্যের মাধ্যমে। এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া, যার আশপাশে রয়েছে চীন, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত। এই করিডরের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য (সেভেন সিস্টার্স) মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের তথাকথিত আধ্যাত্মিক গুরু জাজ্ঞি বাসুদেব, যাকে সাধগুরু নামেও ডাকা হয়, বলেন, “শিলিগুড়ি করিডর হলো ৭৮ বছরের পুরোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি যখন প্রকাশ্য হুমকি তৈরি হয়েছে, তখন এই ‘চিকেনস নেককে’ পুষ্ট করে একে ‘হাতি’ রূপে রূপান্তরিত করার সময় এসেছে।”
তিনি স্পষ্ট করেননি, কোন দেশ বা পক্ষ এই হুমকি সৃষ্টি করছে। তবে মন্তব্যে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় শিলিগুড়ি করিডরকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, তা উল্লেখ করেন। “১৯৭২ সালে ভারত এই বিষয় নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম ছিল, তবুও তা করা হয়নি। এখন সবাই এ নিয়ে কথা বলছে। সময় এসেছে করিডরকে শক্তিশালী করার, যাতে এটি দ্রুত ‘হাতি’তে রূপান্তরিত হয়,” বলেন তিনি।
সাধগুরু আরও বলেন, “দুর্বল হয়ে কোনো জাতি গড়ে ওঠে না। তাকে শক্তিশালী হতে হবে, হয়ত কিছু পুষ্টি বা ‘স্টেরয়েড’-এর প্রয়োজন হতে পারে। যা-ই প্রয়োজন হোক, আমাদের তা করতে হবে। প্রতিটি পদক্ষেপের একটি মূল্য এবং খরচ থাকে।”
এ বিষয়ে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্য কূটনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সীমান্ত এলাকায় বৈরী আচরণ, নাগরিক পুশ-ইন, নির্বিচারে গুলি চালানো এবং অবৈধ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা বিষয়গুলো উত্তেজনা তৈরি করছে। পাশাপাশি ভারতে বসে কিছু রাজনৈতিক মহলের বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু উত্তেজনাকে আরও তীব্র করছে।