সারাবিশ্ব

জুয়ার নেশায় একসঙ্গে ১৪ জনকে বিয়ে, হাতিয়ে নিলেন লাখো ডলার


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

জুয়ার নেশায় একসঙ্গে ১৪ জনকে বিয়ে, হাতিয়ে নিলেন লাখো ডলার
ছবি: সংগৃহীত

জুয়ার নেশার অর্থ জোগাতে একসঙ্গে ১৪ জন পুরুষকে বিয়ে করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এক নারী আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তবে প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমঝোতার কারণে তার কারাদণ্ডের পরিবর্তে প্রবেশন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সী জিয়াইং চেন ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন। তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টিতে তিনি মোট ১৪টি বিয়ের সনদ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ‘ভিকি লিয়াং’ নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরুষকে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলতেন তিনি।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, বিয়ের পর চেন তার স্বামীদের কাছে দাবি করতেন চীনে থাকা অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার জন্য জরুরি অর্থ প্রয়োজন। এই অজুহাতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করেন। তবে তদন্তে দেখা গেছে, ওই অর্থ আত্মীয়দের চিকিৎসায় নয়; বরং লাস ভেগাসের বিলাসবহুল ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতেই ব্যয় করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুধু গত এক বছরেই জুয়া খেলতে গিয়ে তিনি তিন লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ হারিয়েছেন।

গত ৯ জুলাই বহুবিবাহ ও প্রতারণার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেন চেন। এর বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহারে সম্মত হয় প্রসিকিউশন। পাশাপাশি তার জন্য প্রবেশনের সুপারিশ করা হবে।

আগামী ২০ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করা হবে। আইনে বহুবিবাহের অপরাধে এক থেকে চার বছর এবং প্রতারণার অভিযোগে এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, প্রসিকিউশনের সুপারিশে তিনি স্বল্পমেয়াদি কারাভোগ বা কারাদণ্ড ছাড়াই মুক্তি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, পরিচয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। বিয়ের পর বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পরই ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতেন। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার নেওয়ার পর তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে চেন জানান, একটি ভুয়া বিয়ে থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতেন তিনি। লাস ভেগাসে বিয়ে করা সহজ হওয়ায় শহরটিকেই প্রতারণার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।