সারাবিশ্ব
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে পাকিস্তান!
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরব লক্ষ্য করে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে চলমান বিরোধে এবার সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
বার্তাসংস্থা ‘রয়টার্স’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে এমন অভিযোগ তুলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথিরা। এতে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়।
এ ঘটনার পর পাকিস্তানের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব তেহরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবের ওপর কোনো হামলা মানে পাকিস্তানের ওপর সরাসরি আঘাত, যা ইসলামাবাদের জন্য একটি স্পষ্ট সীমারেখা হিসেবে বিবেচিত হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এই চুক্তির আওতায় বর্তমানে হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা ও যুদ্ধবিমান সৌদি আরবে মোতায়েন রয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থান তাদের সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানকে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুহাম্মদ আমির রানা বলেন, এত দ্রুত আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে—এটি আগে ধারণা করা হয়নি।
এদিকে, উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হুমকির মুখে পড়ায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতির অবনতিতে পাকিস্তানের জ্বালানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে। ফলে সরকারকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগেভাগে বন্ধ রাখাসহ জরুরি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল গুলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, আপাতত দেশটির নেতৃত্ব সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে হুথিদের হামলা বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যেতে পারে।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসলামাবাদ। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির অবস্থানের সঙ্গে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর লক্ষ্য ভিন্নমুখী হয়ে উঠছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ সফর করেছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কসহ চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযম, সংলাপ ও কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই। তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব যদি সামরিক সহায়তা চায়, তাহলে পাকিস্তান তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।