সারাবিশ্ব

স্বাধীনতা ঘোষণার মাঝেই বেলুচিস্তানে হামলা, নিহত ৪৫ সেনা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

স্বাধীনতা ঘোষণার মাঝেই বেলুচিস্তানে হামলা, নিহত ৪৫ সেনা
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য বেলুচিস্তান পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, মাসতুং এলাকার কাছে এ হামলা সংঘটিত হয়।

বিএলএ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর মূল বহর, বহরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্য এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অতিরিক্ত সেনাদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে।

যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার ঘটনা স্বীকার করেছে, তবে এখনো পর্যন্ত নিহতের কোনো সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ফলে বিএলএর দেওয়া হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংগঠনটির মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচ দাবি করেন, বিবৃতি প্রকাশের সময়ও তাদের যোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ চলছিল। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন শাবান’ নামে একটি যৌথ অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর, বেলুচিস্তান পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিমানবাহিনী অংশ নিচ্ছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা প্রসঙ্গেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মীর ইয়ার বালুচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, বেলুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং প্রদেশটির অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে। তবে এ দাবিরও কোনো স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অংশ গওয়াদর গভীর সমুদ্রবন্দরও এই প্রদেশে অবস্থিত।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরু থেকেই বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে কয়েকটির দায় স্বীকার করেছে বিএলএ, আর কয়েকটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের দাবি থাকলেও সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।