সারাবিশ্ব

নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু, আইনি পথ খুঁজছেন মামদানি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু, আইনি পথ খুঁজছেন মামদানি
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য এ অধিবেশনে তিনি যোগ দিলে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব কি না সে বিষয়ে আইনি পর্যালোচনা করছে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি-এর প্রশাসন।

একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে মামদানি দাবি করেন, নেতানিয়াহুর অবস্থান হওয়া উচিত নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে। তার মতে, গত কয়েক বছরের কর্মকাণ্ডের কারণে নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে।

তবে এ বক্তব্যে গুরুত্ব দিচ্ছেন না জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ীই নিউইয়র্ক সফরে আসবেন নেতানিয়াহু এবং জাতিসংঘের মঞ্চে ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরবেন।

মামদানি জানান, এ বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের মাধ্যমে সরাসরি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার মতো ক্ষমতা তার রয়েছে কি না—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন তিনি। তার ভাষায়, আইন যতটুকু সুযোগ দেয়, ততটুকুই করা হবে; নতুন করে কোনো আইন তৈরি করা হবে না।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মামদানির বক্তব্যের জবাব দেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, এ ধরনের হুমকি তাকে উদ্বিগ্ন করে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পরও সেই অবস্থান বজায় রেখেছেন।

নিউইয়র্কে ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল ওফির আকুনিস বলেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানানোর কোনো আইনি এখতিয়ার মেয়রের নেই। তার মতে, এ ধরনের বিষয়ে মন্তব্য না করে শহর পরিচালনায় মনোযোগ দেওয়া উচিত।

এর আগে নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও মামদানি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে চান তিনি। তখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যা’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন। আদালতের প্রভাব কমাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নেতা দাবি করে আসছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের থাকা উচিত নয়।