আইন আদালত

গুমের মামলায় হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:২৮ এএম

গুমের মামলায় হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৭টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনাল–১–এর চেয়ারে থাকা বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে আনা হয়। আজ এই ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ঠিক কতজনকে আদালতে উপস্থিত করা হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা তিনটি মামলায় মোট ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে এক মামলায় ১৭ জন, দ্বিতীয় মামলায় ১৩ জন এবং তৃতীয় মামলায় চারজন আসামি রয়েছেন। এসব মামলার দুটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও রয়েছে। তিন মামলার মোট ২৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে বর্তমানে ১৫ জন ট্রাইব্যুনালের হেফাজতে আছেন।

এদিকে সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজধানীর কাকরাইল, মৎস্য ভবন, পল্টনসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ও হাইকোর্ট মাজারগেট এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্যদের কড়া টহল দিতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম. এইচ. তামিম জানান, “আজ হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার দিন নির্ধারিত রয়েছে। কেউ অনুপস্থিত থাকলে তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশনা দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি ট্রাইব্যুনাল আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন, তবে কোন কারাগারে রাখা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা কর্তৃপক্ষ।”

এর আগে ৮ অক্টোবর গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগে টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে এবং ২২ অক্টোবরের মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।

একই দিনে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা ‘আয়নাঘর’-এ সংঘটিত গুমের অভিযোগে শেখ হাসিনা, তারেক রহমানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এছাড়া জুলাই–আগস্টের আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

সব মিলিয়ে এই তিন মামলায় ২৫ জন সেনা কর্মকর্তা আসামি হিসেবে রয়েছেন। সেনা সদর দপ্তর ৯ অক্টোবর নিশ্চিত করে যে তাদের মধ্যে ১৫ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আজকের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু করার আবেদন জানান। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ হাজিরের নির্দেশ জারি করেন।