আইন আদালত

শেখ হাসিনার রায় কাল, ঢাকায় বড় পর্দায় ও বিটিভিতে হবে সরাসরি সম্প্রচার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৩৩ পিএম

শেখ হাসিনার রায় কাল, ঢাকায় বড় পর্দায় ও বিটিভিতে হবে সরাসরি সম্প্রচার
ফাইল ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির রায় ঘোষণা করা হবে সোমবার (১৭ নভেম্বর)। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) রায়টি সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পাশাপাশি ঢাকার বেশ কয়েকটি স্থানে বড় পর্দায় রায় ঘোষণার আয়োজন করা হবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও সম্প্রচার করা হবে রায়।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রায় ঘোষণার এই তারিখ নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এই মামলার তিন আসামি হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। আসামিদের মধ্যে সাবেক আইজিপি আল-মামুন মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. আমির হোসেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর, যেদিন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

অভিযোগগুলো হলো- গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর অভিযোগ। এই পাঁচ অভিযোগে তিন জনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার।