আইন আদালত

রামিসা হত্যার রায়: আদালতে আনা হলো আসামি সোহেল ও তার স্ত্রীকে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম

রামিসা হত্যার রায়: আদালতে আনা হলো আসামি সোহেল ও তার স্ত্রীকে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা বহুল আলোচিত মামলার রায় রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করবেন আদালত। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকালেই প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ায় পুরো দেশের নজর এখন রায় ঘোষণার দিকে।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় আট বছরের রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত বিচারের দাবি ওঠে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেওয়া হয়।

ঘটনার দিনই পুলিশ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়।

পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানাকে প্রধান আসামি এবং স্বপ্না আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

তদন্তে ডিএনএ ও ফরেনসিক প্রমাণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। পরে ২৪ মে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান।

১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।

৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং আদালতের কাছে ক্ষমা চান। একইভাবে স্বপ্না আক্তারও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

৪ জুন যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক তথ্য এবং অন্যান্য উপাদানের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, ডিএনএ প্রতিবেদন, সিসিটিভি ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রমাণ অনুপস্থিত থাকায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তিনি আসামিদের খালাসের আবেদন জানান।

তবে বিকল্পভাবে তিনি সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা প্রার্থনা করেন।

মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় মামলাটি সাম্প্রতিক সময়ের দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রায় ঘোষণার আগের দিন এক গোলটেবিল আলোচনায় রামিসার বাবা বলেন, তিনি শুধু ন্যায়বিচার চান না, বরং এমন একটি সমাজ চান যেখানে আর কোনো শিশুকে এমন নির্মম ঘটনার শিকার হতে না হয়।