আইন আদালত
শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩০ সেপ্টেম্বর
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী এ আদেশ দেন।
এদিন মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি উপস্থাপন করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আসামিদের অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে শুনানি শুরু করেন। তবে তাদের শুনানি শেষ না হওয়ায় আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী।
মামলার নথি অনুযায়ী, মোট ২৮৬ জন আসামির মধ্যে ২৫৯ জন পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৭ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুম সভায় অংশ নিয়ে শেখ হাসিনাকে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় আনা, বর্তমান সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ওই ভার্চুয়াল সভায় দেশ-বিদেশ থেকে মোট ৫৭৭ জন অংশ নেন এবং শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসরণে একমত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে সিআইডি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভার ভয়েস রেকর্ড বিশ্লেষণে বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ার পরিকল্পনা এবং গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের আহ্বানের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের উপাদান বহন করে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক প্রথমে শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে গত বছরের ১৪ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবিনা আক্তার তুহিন, ড. রাব্বি আলম, কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, এ. কে. এম. আক্তারুজ্জামান, আজিদা পারভীন পাখি, এ. এফ. এম. দিদারুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রুবিনা আক্তার, পংকজ নাথ, লায়লা বানু, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, রিতু আক্তার, নুরুন্নবী নিবির, সাবিনা বেগম ও শরিফুল ইসলাম রমজানসহ আরও অনেকে।