আইন আদালত

তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার বারে যাওয়া সেই তরুণী দিশা ৪ দিনের রিমান্ডে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার বারে যাওয়া সেই তরুণী দিশা ৪ দিনের রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি জেরিকা তাসনীম দিশাকে (১৯) চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মৃত্যুর আগে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার একটি বারে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন এই তরুণী।

রোববার ১ নভেম্বর শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে দিশাকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার কাফরুল থানাধীন নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন জেরিকা তাসনীম দিশা।

এ ছাড়া ঘটনার আগে তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’-এ গিয়েছিলেন। একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে মামলার অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গেও দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে। তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় অবস্থান এবং মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির তথ্যও পাওয়া গেছে। নিহত তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলার প্রমাণ মিলেছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, অন্য অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যার স্থান নির্ধারণ এবং আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। পাশাপাশি অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখার জন্যও তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে মামলাটি করা হয়। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

মামলার এজাহারে তাহসিফের বাবা উল্লেখ করেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর তার ছেলে কে এম তাহসিফ সাউরি দীপ নামে এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন। রাত গভীর হলেও ছেলে বাসায় না ফেরায় তার মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করেন। তখন তাহসিফ কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফেরার কথা জানান।

এজাহারে আরও বলা হয়, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাহসিফের ফোন থেকে তার মায়ের ফোনে একটি কণ্ঠবার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। তবে রাত পেরিয়ে পরদিন বিকেল হলেও তিনি বাসায় ফেরেননি।

পরে ২৮ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে উত্তরখান থেকে নৌ পুলিশ ফোন করে তাহসিফের বাবাকে জানায়, রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তার ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে নৌ পুলিশ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওই দিন বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাহসিফকে দাফন করা হয়।