লাইফস্টাইল

মোবাইল হাতে নিয়ে খাবার খাচ্ছেন, হতে পারে যেসব ক্ষতি


লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:২৯ পিএম

মোবাইল হাতে নিয়ে খাবার খাচ্ছেন, হতে পারে যেসব ক্ষতি
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ দৃশ্য- খেতে বসে কেউ টিভি দেখছে, কেউবা ফোন স্ক্রল করছে। ছোটবেলায় মা-বাবারা বলতেন, “খাওয়ার সময় মন দিয়ে খাও”, “টিভি বন্ধ করো”। এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ।

অনেকেই ভাবেন, খাওয়ার সময় স্ক্রিন দেখা কোনো সমস্যা না। কিন্তু চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাসে দেহ ও মনের ক্ষতি হচ্ছে নীরবে।

lifestyle1_Dhakaprokash.jpg

চলুন, জেনে নিই খাওয়ার সময় মোবাইল, টিভি বা অন্য স্ক্রিন ব্যবহারের কিছু ক্ষতিকর প্রভাব।

১. বেশি খাওয়া ও ওজন বেড়ে যাওয়া-

স্ক্রিনে চোখ থাকলে আপনি কতটা খাচ্ছেন, সেটাই বোঝেন না। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেন। এতে ওজন বেড়ে যেতে পারে।

২. মনোযোগ বিভ্রান্ত হয়-

একদিকে খাবার, অন্যদিকে স্ক্রিন—ফলে মনোযোগ ভাগ হয়ে যায়। খাবারের স্বাদ-গন্ধ ঠিকভাবে উপভোগ করা হয় না।

lifestyle2_Dhakaprokash.jpg

৩. খাওয়ার মান খারাপ হয়-

টিভি বা ফোনে মনোযোগ থাকার কারণে অনেক সময় ঝটপট কিছু খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়—যেমন চিপস, ফাস্টফুড, কোমল পানীয়। এতে খাবারের গুণগত মান কমে যায়।

৪. হজমে সমস্যা হয়-

মন দিয়ে খাওয়া না হলে হজমের প্রক্রিয়াও ঠিকমতো কাজ করে না। গ্যাস, বদহজম, পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে।

৫. বিপাক ক্রিয়া কমে-

বসে বসে স্ক্রিনে চোখ রেখে খাওয়ার সময় শরীর তেমন নড়াচড়া করে না। এতে বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ধীর হয়ে যায়। ফলে শরীরে ক্যালরি জমে, বাড়ে ওজন।

lifestyle3_Dhakaprokash.jpg

৬. খাবারে তৃপ্তি আসে না-

খাওয়ার পর মনে হয়—কী খেলাম, ঠিকভাবে খেলাম তো? মনোযোগ না থাকলে খাবারের স্বাদ-তৃপ্তি কিছুই পাওয়া যায় না।

৭. পারিবারিক সম্পর্ক দুর্বল হয়-

খাওয়ার সময় একসঙ্গে বসে কথা বলাই পরিবারের বন্ধন মজবুত করে। কিন্তু সবার চোখ যদি ফোন বা টিভিতে থাকে, তাহলে সেই আন্তরিক সময়টুকু হারিয়ে যায়।

কী করা যায়?

* খাওয়ার সময় ফোন বা টিভি থেকে দূরে থাকুন

* পরিবারের সঙ্গে খাওয়ার সময় গল্প করুন

* খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান

* খাওয়ার মুহূর্তটি উপভোগ করুন

খাবার শুধু শরীরের প্রয়োজন নয়, মানসিক প্রশান্তিরও উৎস। তাই চেষ্টা করুন দিনের অন্তত কিছুটা সময় স্ক্রিন ছেড়ে, প্রিয়জনদের সঙ্গে শান্তভাবে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে।