লাইফস্টাইল

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ত্বক ফর্সাকারী ৮ ক্রিমে মিলল বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি


লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ত্বক ফর্সাকারী ৮ ক্রিমে মিলল বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ত্বক ফর্সাকারী ৮টি ব্র্যান্ডের ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় পারদ (মার্কারি) শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন। সংস্থাটি এসব পণ্য বিক্রি, বিতরণ ও মজুদ না করার পাশাপাশি ব্যবহার থেকেও বিরত থাকার জন্য ভোক্তাদের সতর্ক করেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, বাজার থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিম পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্ধারিত সর্বোচ্চ ১ পিপিএমের পরিবর্তে বহু গুণ বেশি পারদ রয়েছে।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, চাঁদনি হোয়াটেনিং ক্রিমে ১২০.৩৯ পিপিএম, নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪.৭২ পিপিএম, নাভিয়া বিউটি ক্রিমে ৫৯.৮২ পিপিএম এবং নাভিয়া হোয়াটেনিং ক্রিমে ৭৯.৭০ পিপিএম পারদ পাওয়া গেছে। এছাড়া নুর হোয়াটেনিং ক্রিমে ৮২.৭৬ পিপিএম, ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩.৩৭ পিপিএম, গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬.৯৩ পিপিএম এবং ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিমে ৬৭.৪৯ পিপিএম পারদ শনাক্ত হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, দেশে বিক্রি হওয়া অনেক ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম বৈধভাবে আমদানি করা হয় না। লাগেজ বা বিভিন্ন অবৈধ পথে এসব পণ্য দেশে প্রবেশ করায় সেগুলোর মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভোক্তাদের উদ্দেশে সংস্থাটি পরামর্শ দিয়েছে, অজ্ঞাত বা অনুমোদনবিহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম কেনা ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে। একই সঙ্গে প্রসাধনী কেনার আগে অনুমোদন যাচাই এবং সন্দেহজনক পণ্য সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন পারদযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হওয়া, ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি এবং স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতাসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এটি অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।