লাইফস্টাইল

জেনে নিন শীতকালীন শাক-সবজির নানা উপকারিতা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৯ পিএম

জেনে নিন শীতকালীন শাক-সবজির নানা উপকারিতা
ছবি: সংগৃহীত

শীতকালীন শাক-সবজির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শীত মানেই নানা সবজির সমাহার। এসব সবজিতে যেমন আছে বৈচিত্র্য, তেমনি পুষ্টিগুণে ভরা।

এগুলো আমাদের দেহে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আসুন জেনে নেওয়া যাক শীতকালে সবজির নানা উপকারিতা।

pic.jpg
 শীতকালীন শাক-সবজির নানা উপকারিতা রয়েছে।

১. মূলা
পুষ্টিগুণ: ভিটামিন-সি, বিটা-ক্যারোটিন, এবং সিসটিনসমৃদ্ধ প্রোটিন।
উপকারিতা: ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। যকৃতের প্রদাহ ও জণ্ডিস নিরাময়ে কার্যকর।

২. ফুলকপি
পুষ্টিগুণ: ভিটামিন এ, বি, সি, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সালফার।
উপকারিতা: রক্ত তৈরিতে সহায়তা করে। পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। মূত্রথলি, প্রোস্টেট ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর।

৩. ব্রোকলি
পুষ্টিগুণ: আমিষ, ভিটামিন-সি, খনিজ ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
উপকারিতা: দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে,ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। লিভার সুরক্ষায় কার্যকর। হৃদরোগ প্রতিরোধ করে।ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। অ্যালার্জি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৪. বাঁধাকপি
পুষ্টিগুণ: ভিটামিন-সি ও ই, ফাইবার।
উপকারিতা: হাড়কে মজবুত করে। পাকস্থলীর আলসার প্রতিরোধে কার্যকর। ওজন কমাতে সহায়ক।

sobji 2.jpg
বাঁধাকপি

৫. গাজর
পুষ্টিগুণ: বিটা ক্যারোটিন।
উপকারিতা: দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। অন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। এ ছাড়া গাজরে ক্যালরি কম ও ফাইবার বেশি থাকায় ওজন কমাতে, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে, কোলেস্টেরল কমাতে ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।

৬. টমেটো
পুষ্টিগুণ: ভিটামিন-সি ও লাইকোপিন।
উপকারিতা: ত্বক ও চুলের রুক্ষভাব দূর করে। চর্মরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। দাঁতের গোড়া শক্তিশালী করে।

৭. পালংশাক
পুষ্টিগুণ: ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও আয়রন।
উপকারিতা: হাড় ও আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধ করে। হৃদরোগ ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর।

palong.jpg
পালংশাক

৮. ধনেপাতা
পুষ্টিগুণ: ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ ও ফলিক অ্যাসিড।
উপকারিতা: ত্বকের পুষ্টি জোগায়,মুখ গহ্বরের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। চোখের দৃষ্টি শক্তি উন্নত করে।

৯.শিম 
পুষ্টিগুণ: শিম প্রোটিনের উৎস, যা পেশি গঠনে ও শীতে রোগপ্রতিরোধে সাহায্য করে। এ ছাড়া শিমে থাকা ফাইবার হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। শিমে রয়েছে পটাশিয়াম, ফোলেট ও কপার, যা রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

১০.মটরশুঁটি 
পুষ্টিগুণ: মটরশুঁটিতে ক্যালরি কম ও ফ্যাট কম থাকায় ওজন কমাতে ও ডায়াবেটিস রোগীদের ও হৃদ্‌রোগীদের জন্য উপকারী। এ ছাড়া রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন বি৬, ফোলেট ও পটাশিয়াম, যা হজমশক্তি বৃদ্ধি, কোলেস্টেরল কমাতে, হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। এতে পলিফেনাল থাকে, যা পাকস্থলী ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

motorsuty.jpg
মটরশুঁটি

শীতকালীন শাক-সবজি আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাখার মাধ্যমে শরীর সুস্থ রাখা সম্ভব। তাই সুষম খাদ্য গ্রহণের জন্য শীতকালীন শাক-সবজি গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

কখন খাবেন না
যাঁদের থাইরয়েডের সমস্যা বা গলগণ্ড আছে, যাঁরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান ও আইবিএসের সমস্যা আছে, তাঁরা অতিরিক্ত ক্রুসিফেরাস সবজি খাবেন না। বেশি পরিমাণে গাজরের রস শিশুদের দাঁতের ক্ষয় ও ত্বক হলুদ হতে পারে।

এ ছাড়া ডায়াবেটিস রোগীরা অতিরিক্ত রান্না করা গাজর খাবেন না। যাঁদের অ্যাসিডিটি, জিইআরডি, আইবিএস, কিডনিতে পাথর সমস্যা, দীর্ঘদিন আর্থ্রাইটিস বা প্রদাহজনিত সমস্যা আছে, তাঁরা টমেটো বেশি খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

থাইরয়েড, কিডনিতে পাথর বা কিডনিজনিত সমস্যা থাকলে পালংশাক এড়িয়ে চলুন। এ ছাড়া কিডনির সমস্যা, ইউরিক অ্যাসিড বাড়তি থাকলে মটরশুঁটি কম খাবেন কিংবা এড়িয়ে যাবেন।