লাইফস্টাইল
গবেষণায় চমক: নারীরা নয়, পুরুষরাই বেশি আবেগপ্রবণ ও দ্রুত প্রেমে পড়ে
দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধারণা ছিল নারীরাই বেশি আবেগপ্রবণ এবং প্রেমে বেশি গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণা এই ধারণাকে নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রেমের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর অভিজ্ঞতা এক নয়। তারা ভিন্ন সময়, ভিন্ন গতিতে এবং ভিন্নভাবে ভালোবাসা অনুভব করে।
২০২৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ার একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যাডাম বোডে, সেভেরি লুয়োটো ও ফিলিপ এস কেভানাগ যৌথভাবে কাজ করেন। গবেষণাটি একটি বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।
এই গবেষণায় ৩৩টি দেশের ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ৮০৮ জন প্রেমে থাকা তরুণ-তরুণীর ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, পুরুষরা নারীদের তুলনায় গড়ে প্রায় এক মাস আগে প্রেমে পড়ে। তারা দ্রুত আকর্ষণ অনুভব করে এবং সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যায়।
অন্যদিকে নারীরা প্রেমে পড়তে কিছুটা সময় নিলেও তাদের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে বেশি গভীর হয়। তারা সঙ্গীকে নিয়ে বেশি চিন্তা করে এবং আবেগে বেশি জড়িয়ে পড়ে।
গবেষকদের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে বিবর্তনগত কারণ থাকতে পারে। পুরুষদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা সম্পর্ক গড়তে সহায়ক ছিল, আর নারীরা সঙ্গী নির্বাচনে তুলনামূলক বেশি সতর্ক থাকতেন।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, পুরুষ আগে “আমি তোমাকে ভালোবাসি” বললে তা সবসময় কম আবেগের প্রকাশ নয়; বরং তারা স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
অন্য একটি ২০২৪ সালের দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় ৩ হাজার ৮০০-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্কের দৈনন্দিন অনুভূতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, বিয়ের আগে নারীরা প্রেমের অনুভূতি বেশি তীব্রভাবে প্রকাশ করেন, তবে বিয়ের প্রথম দুই বছরে সেই তীব্রতা কিছুটা কমে আসে।
অন্যদিকে পুরুষদের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে এবং সময়ের সঙ্গে খুব বেশি পরিবর্তিত হয় না। গবেষকদের মতে, নারীরা সম্পর্কের আবেগগত ওঠানামা বেশি অনুভব করেন এবং সংসারের দৈনন্দিন দায়িত্ব তাদের আবেগে প্রভাব ফেলে।
গবেষণার ফলাফল বলছে, পুরুষরা কম আবেগপ্রবণ বা দেরিতে প্রেমে পড়ে এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং তারা অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত প্রেমে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে সেই অনুভূতি স্থিরভাবে ধরে রাখে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রেমের ক্ষেত্রে কোনো একক নিয়ম নেই। একই সম্পর্কে দুইজন মানুষের অনুভূতি ভিন্ন হতে পারে। সঙ্গীর অনুভূতির গতি, গভীরতা ও পরিবর্তন বোঝার মধ্যেই একটি সম্পর্কের স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে।
সূত্র: ফোর্বস