লাইফস্টাইল
ওজন কমাতে গিয়ে যেসব মারাত্মক ভুলে অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ
সুঠাম দেহ আর কাঙ্ক্ষিত ফিগার কার না পছন্দ? কিন্তু এই ফিটনেস অর্জনের দৌড়ে গিয়ে আমরা অনেকেই বিজ্ঞানের চেয়ে আবেগকে বেশি গুরুত্ব দিই।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন কমানোর যাত্রায় ভুল পদ্ধতির কারণে হিতে বিপরীত হওয়ার হার বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। পুষ্টিবিদ ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ওজন কমানোই শেষ কথা নয়, সেটি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হচ্ছে কি না সেটাই আসল।
ওজন কমাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যে মারাত্মক ভুলগুলো করে থাকেন, তা তুলে ধরা হলো:
১. 'ক্রাশ ডায়েট' বা অনাহারে থাকা
ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই খাবার একদম কমিয়ে দেন বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা না খেয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শরীরের 'মেটাবলিজম' বা বিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে সাময়িকভাবে ওজন কমলেও শরীরের পেশি (Muscle mass) ক্ষয় হয় এবং ভবিষ্যতে মেদ জমার প্রবণতা দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
২. কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটকে পুরোপুরি 'শত্রু' ভাবা
ভাত, রুটি বা তেল পুরোপুরি বাদ দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। কার্বোহাইড্রেট হলো মস্তিষ্কের জ্বালানি আর হেলদি ফ্যাট হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এগুলো একদম বন্ধ করে দিলে ক্লান্তি, চুল পড়া এবং মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
৩. অনিয়মিত ঘুম ও মানসিক চাপ
আপনি কি জানেন, পর্যাপ্ত না ঘুমালে ডায়েট করেও ওজন কমানো অসম্ভব? ঘুমের অভাবে শরীরে 'কর্টিসল' নামক স্ট্রেস হরমোন বাড়ে, যা পেটের মেদ জমানোর জন্য সরাসরি দায়ী। দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম ওজন কমানোর ওষুধের মতো কাজ করে।
৪. তরল ডায়েটের মোহ
অনেকেই ভাতের বদলে সারাদিন ফলের রস বা স্মুদি খেয়ে থাকেন। পুষ্টিবিদদের মতে, গোটা ফলের চেয়ে রসে আঁশ (Fiber) কম থাকে এবং চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং দ্রুত ক্ষুধা অনুভব করায়।
৫. শুধু ওজন মাপার মেশিনের ওপর নির্ভরতা
ওজন কমানো মানে কেবল মেশিনের কাঁটা কমানো নয়। অনেক সময় ব্যায়ামের ফলে চর্বি কমে পেশি বাড়ে, তখন মেশিনে ওজন না-ও কমতে পারে। তাই আয়নায় নিজের পরিবর্তন এবং কাপড়ের ফিটিং দেখে উন্নতি বোঝা বেশি জরুরি।
৬. প্রোটিন গ্রহণে অনীহা
ওজন কমানোর সময় অনেকেই শুধু ক্যালোরি কমানোর দিকে নজর দেন, কিন্তু পর্যাপ্ত প্রোটিন খান না। প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং ব্যায়ামের পর পেশি পুনর্গঠন করে। ডায়েটে প্রোটিন কম থাকলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মেটাবলিজম কমে যায়।
৮. খাবার ভালো করে না চিবিয়ে দ্রুত খাওয়া
মস্তিষ্কের কাছে পেট ভরার সংকেত পৌঁছাতে অন্তত ২০ মিনিট সময় লাগে। যারা তাড়াহুড়ো করে খাবার খান, তারা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করে ফেলেন। ধীরগতিতে চিবিয়ে খেলে তৃপ্তি দ্রুত আসে এবং হজম প্রক্রিয়া ভালো হয়।
৯. পানির পরিবর্তে চিনিযুক্ত পানীয়
অনেকে মনে করেন ডায়েট করছেন বলে কোল্ড ড্রিঙ্কস বা এনার্জি ড্রিঙ্কস খাওয়া যাবে। কিন্তু এই পানীয়গুলোতে প্রচুর পরিমাণে 'Empty Calories' থাকে যা চর্বি বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রাখে। দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার সাধারণ পানি পান না করা ওজন কমানোর পথে বড় বাধা।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
ওজন কমানো কোনো ম্যাজিক নয়, বরং এটি একটি জীবনযাত্রার পরিবর্তন। দ্রুত ফলাফল পাওয়ার আশায় ভুল পদ্ধতি বেছে না নিয়ে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শরীরচর্চার ওপর জোর দিন।