জাতীয়
‘ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার’
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ভোটের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সবরকম প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শফিকুল আলম বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য সকল ঝুঁকি নিরসন করতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, ভোটগ্রহণের আগেও প্রয়োজনে পরবর্তীেও যাতে আইনি-শৃঙ্খলা অক্ষুন্ন থাকে, সে ব্যাপারে সব প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
প্রেস সচিব আরও জানান, নির্বাচনের আগে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ওসি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)দের পদে রদবদল করা হবে এবং তা ‘র্যান্ডম পদ্ধতিতে’ সারাদেশে বাস্তবায়ন হবে। এই উদ্যোগ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শফিকুল আলম বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রায় ৮ লাখ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এই সদস্যদের সবাইকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্র ও দায়িত্ব সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে।” এছাড়াও তিনি বলেন, বাহিনীকে আগামী মাসগুলোতে আরও বেশি কঠোর হবার নির্দেশনা দিয়েছেন উপদেষ্টা ইউনূস।
এই নিরাপত্তা প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে- সীমান্ত এলাকা, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র—তবে কোথায় কোন বাহিনী ছাড়া, কতজন আনসার, পুলিশ, বিজিবি, সেনা ও স্ট্রাইক ফোর্স থাকবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ইতোমধ্যে হয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকারের ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ১৮–৩২ বছর বয়সীদের অংশগ্রহণ কিছুটা সীমাবদ্ধ ছিল। এ সমস্যা সমাধানের জন্য অধ্যাপক ইউনূস নির্দেশ দিয়েছেন—তরুণ ভোটারদের আলাদা তালিকা ও পৃথক ভোটিং বুথ তৈরি করার। যদিও এটি “লজিস্টিক্যাল” একটি উদ্যোগ, তবে সেটি বাস্তবায়নে কৌশল নির্ধারণ করতে বলেছেন তিনি।