জাতীয়

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক গ্রেপ্তার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫, ০৯:৩৩ এএম

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক গ্রেপ্তার
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে (অব.) গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল আটটার কিছু পর রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, "সকাল আটটার পরপরই আমরা তাকে ধানমন্ডির বাসা থেকে আটক করেছি। তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে এবিএম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শপথ নেন। তিনি ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যান। বিচারপতি থাকাকালীন এবং অবসরোত্তর সময়জুড়েই তিনি নানা বিতর্কে জড়ান। তার একাধিক রায় ও কর্মকাণ্ড বিচারাঙ্গনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিশেষ করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়টি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর মোড় তৈরি করে। এই রায়ের পর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত চরমে পৌঁছায়, যা আওয়ামী লীগকে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে বারবার ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ করে দেয় বলে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ।

বিচারপতি খায়রুল হককে নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্কের শেষ নেই। বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মতে, তিনি ছিলেন 'বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের মূল কারিগর'। তারা সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তার গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছিল।

তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—ত্রাণ তহবিলের টাকায় ব্যক্তিগত চিকিৎসা, জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের উপেক্ষা করে প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ, বিতর্কিত বিচারপতিদের শপথ, আগাম জামিনের এখতিয়ার বাতিল, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদসহ একাধিক পদক্ষেপ।

সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৮ আগস্ট ঢাকার আইনজীবী ইমরুল হাসান তার বিরুদ্ধে মামলা করেন, যেখানে সংবিধান সংশোধনের রায় ‘পরিবর্তন’ এবং ‘জালিয়াতি’র অভিযোগ আনা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ১৩ আগস্ট তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি কার্যত আত্মগোপনে ছিলেন।