জাতীয়

নতুন অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অনুমোদন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:০৬ পিএম

নতুন অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, পূর্ববর্তী মানবাধিকার কমিশন কার্যত দন্তহীন একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়ার ত্রুটি, এখতিয়ারের ঘাটতি ও নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। নতুন অধ্যাদেশে কমিশনকে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতাসম্পন্ন ও স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করতে আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন আহ্বান করা হবে এবং বাছাই কমিটি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের সুপারিশ করবে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে অভিজ্ঞ, যোগ্য ও মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় মানুষরা কমিশনে জায়গা পান।” তিনি আরও জানান, সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি ও প্রথাগত আইনে স্বীকৃত মানবাধিকারের বিষয়গুলোও কমিশনের এখতিয়ারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে কমিশন এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ করতে পারবে।

অধ্যাদেশে কমিশনের ক্ষমতা ও এখতিয়ার বহুলাংশে বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে শৃঙ্খলা বাহিনীসহ রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাতেও কমিশন তদন্ত করতে পারবে। গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা আইনসহ মানবাধিকার সংরক্ষণমূলক যেকোনো আইনের বাস্তবায়নের দায়িত্বও কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ফলে আলাদা করে ‘গুম কমিশন’ গঠনের প্রয়োজন হবে না।

নতুন অধ্যাদেশে কমিশনের আদেশ প্রতিপালনকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইন উপদেষ্টা বলেন, “এখন থেকে কমিশনের সুপারিশ বা নির্দেশ উপেক্ষা করা যাবে না। এর বাধ্যবাধকতা আইনি কাঠামোয় যুক্ত করা হয়েছে।”

সভায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।