জাতীয়

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৫ এএম

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ
কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে। সার আমদানির নামে সরকারি অর্থ লোপাট, নিম্নমানের ও ভেজাল সার আমদানি, লেটার অফ ক্রেডিট (এলসি) মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জি-টু-জি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির মাধ্যমে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকেই সার আমদানি করার কথা। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিদেশি বেসরকারি ট্রেডিং কোম্পানির সাথে চুক্তি করে ওই নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানি থেকে বড় ধরনের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে উচ্চমূল্যে সার আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খোরশেদ আলমের নাম সামনে এসেছে, যিনি একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশে দরপত্র প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে কাজ দিয়েছেন।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে খোরশেদ আলম এবং তার সহকর্মীরা একাধিক বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে সার আমদানি করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রমাণিত কম দামের সার বাজারের বাইরে বিক্রি করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এক ব্যবসায়ী, মোঃ মোবারক হোসেন, এই অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন এবং এর মধ্যে উল্লেখিত দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।

বিশেষ করে, চায়না থেকে সার আমদানির জন্য বিএডিসির সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দুটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সার আমদানি করার কথা থাকলেও ২০২৫ সালে চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করে একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সার আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়। এতে সরকারি অর্থের বিশাল ক্ষতি হয়েছে এবং মানহীন ডিএপি সার দেশে আসছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম পরিবর্তন হলেও কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসি সেগুলোর মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা সরকারের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।