জাতীয়
আট বিভাগে আটদিনে ভোটগ্রহণের প্রস্তাব ইসিতে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত করতে বেশকিছু প্রস্তাব ও দাবি উত্থাপন করেছে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে- আট বিভাগে আটদিন ভোটগ্রহণের দাবি, যা উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। দলটির মতে, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে বিভাগভিত্তিক ভোট আয়োজন করলে নির্বাচন আরও শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত শোনার জন্য ইসি মোট ১১টি এজেন্ডা নির্ধারণ করে।
সংলাপের প্রথম পর্বে অংশ নেয়: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
পরে দ্বিতীয় পর্বে যোগ দেয়: সিপিবি, জেএসডি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বিএনএফ এবং বিএনএম।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও বাহুবলীদের প্রভাব থেকে নির্বাচনকে মুক্ত রাখতে কমিশনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মহিউদ্দিন বিভাগভিত্তিক আটদিনে ভোটগ্রহণের পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসারদের প্রার্থীর বাড়িতে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেন।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি জোবায়দা কাদের চৌধুরী শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনের জন্য কঠোর নজরদারি এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসির কার্যকর উদ্যোগ চান। দলের উপদেষ্টা জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ বাবু বলেন, প্রচারণায় বাধা বা ভয়ভীতি সৃষ্টি হলে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হবে।
এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ড. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বীর বিক্রম বলেন, কালোটাকা, সন্ত্রাসী এবং অসাধু চক্রের প্রভাব পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলছে। জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষায় তফসিল ঘোষণার আগেই কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর বিরোধিতা করে জোটবদ্ধ নির্বাচনে প্রতীক বাছাইয়ের অধিকার রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ব্যয় কমাতে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কার্যালয়ের পরিবর্তে ইউনিয়নভিত্তিক প্রচার কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেন।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৩ দফা প্রস্তাব দেয়। দলটির চেয়ারম্যান শেখ সালাউদ্দিন সালু বলেন, জামানতের টাকা ৫০ হাজারে উন্নীত হওয়ায় ছোট দলগুলো গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগের ২০ হাজার টাকা জামানত পুনঃনির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হোসেন বলেন, বড় দলগুলো শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছে- যা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, অতীতে অনেক কমিশন নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বর্তমান কমিশনের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা বেশি-তাই স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই ইসির মূল দায়িত্ব।