জাতীয়

শেখ হাসিনাকে দেশে আনতে ভারতের কাছে আবারও চিঠি লিখব: আইন উপদেষ্টা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৬ পিএম

শেখ হাসিনাকে দেশে আনতে ভারতের কাছে আবারও চিঠি লিখব: আইন উপদেষ্টা
শেখ হাসিনা (বামে) এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আবারও চিঠি লেখা হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সোমবার (১৭ জুলাই) সচিবালয়ে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা জানান, শেখ হাসিনার মতো “গণহত্যায় দায়ী” ব্যক্তিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত যদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখে, তবে তা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও নাগরিকদের প্রতি অমৈত্রিপূর্ণ আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, “আমরা তাকে প্রত্যর্পণের জন্য আবারও আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাব। ভারত যদি তাকে আশ্রয় দিতে থাকে, তবে তাদের বুঝতে হবে এটি বাংলাদেশের প্রতি এক ধরনের শত্রুতা।”

ড. আসিফ নজরুল বলেন, আজকের রায় দেশবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ন্যায়বিচারের পথ উন্মুক্ত করেছে। “একটা গুরুত্বপূর্ণ বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আল্লাহ চাইলে, যতদিন দায়িত্বে আছি বিচারকার্য একই গতিতে চলবে।” তিনি মামলার তদন্ত ও বিচারকাজে জড়িত সবাইকে অভিনন্দন জানান।

আগামীতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, বিচার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “এই গুরুদায়িত্ব থেকে ভবিষ্যৎ সরকার যেন কোনোভাবেই সরে না যায়- এটাই আমাদের প্রত্যাশা,” বলেন তিনি।

রায়ের তাৎপর্য প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, “আজকের দিনটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আরেকটি বিজয়ের দিন।” তিনি স্মরণ করেন সেই আন্দোলনের সময়ে নিহত মানুষদের, বিশেষ করে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন ও আনাসসহ সকল শহীদের কথা। তার মতে, এই রায় তারা এবং তাদের পরিবারগুলোকে সামান্য হলেও সান্ত্বনা দেবে।

তিনি আরও বলেন, “আজ বাংলাদেশের ইতিহাসে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন, হাজারো মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন, অনেকেই অঙ্গহানি বা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই জঘন্য ঘটনার নেপথ্যের মূল হোতা শেখ হাসিনা এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ইতিহাসে এক বড় অগ্রগতি।”

ড. আসিফ নজরুল জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি এ রায়ে সন্তুষ্ট হলেও বিস্মিত নন। তার ভাষায়, “শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে বিস্তৃত ও শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে, তাতে পৃথিবীর যেকোনো আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়াই ছিল স্বাভাবিক।”