জাতীয়

৮ হাজার কোটি টাকা লেনদেন: ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব তলব


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৩১ পিএম

৮ হাজার কোটি টাকা লেনদেন: ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব তলব
শওকত আলী চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সম্প্রতি ইস্টার্ন ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংকে এ–সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন।

দুদক সূত্র জানায়, শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে থাকা ১৮৭টি ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। চার সদস্যের পরিবারের নামে ২৮টি ব্যাংকে এ সব হিসাব পাওয়া যায়। এর মধ্যে শওকত আলীর নামে ১৪টি, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারীনের নামে ১৫টি, মেয়ে জারা নামরীনের নামে ৯টি এবং ছেলে জারান আলী চৌধুরীর নামে তিনটি হিসাব রয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে রয়েছে আরও ১৪৬টি ব্যাংক হিসাব।

চলতি বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব হিসাব দিয়ে মোট ৮ হাজার ৪০৭ কোটি ৯১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার বেশি জমা এসেছে। এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ৮ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার বেশি। ওই সময় হিসাবগুলোতে মোট স্থিতি ছিল প্রায় ১ হাজার ৭৩ কোটি টাকা। হিসাবগুলোতে জমা-উত্তোলনের ধরন, কেওয়াইসি নথি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতিমধ্যে বিশ্লেষণ করেছে দুদক ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

পর্যালোচনায় সবচেয়ে বড় লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে শওকত আলীর ঢাকা ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখার প্লাটিনাম হিসাবটিতে। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি খোলা এবং ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর বন্ধ হওয়া এ অ্যাকাউন্টে মোট জমা হয়েছে ৩ হাজার ৯৮৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি। একই সময়ে উত্তোলন হয়েছে ৩ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকার বেশি। অ্যাকাউন্ট বন্ধের সময় স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বিএফআইইউ-র ধারণা, এই হিসাবে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশনের লেনদেন করা হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে ট্যাক্স ফাঁকির উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে।

দুদক জানায়, দেশে–বিদেশে শওকত আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ থাকার অভিযোগও অনুসন্ধানে এসেছে। সিঙ্গাপুরে তাদের দুটি বাড়ি এবং দুবাই ও যুক্তরাজ্যে আরও কিছু সম্পদ থাকার তথ্য তদন্ত করছে বিএফআইইউ। গত ৩০ জুন তাদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করে সংস্থাটি।

এ ছাড়া শওকত আলী চৌধুরীর সঙ্গে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফতের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুদক।