জাতীয়

যৌথ বিনিয়োগে নেপালে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশ–নেপাল আলোচনায় অগ্রগতি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৪ এএম

যৌথ বিনিয়োগে নেপালে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশ–নেপাল আলোচনায় অগ্রগতি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও নেপালের বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে দুই দেশের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সপ্তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে অনুষ্ঠিত এ সভায় যৌথ বিনিয়োগে নেপালে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বিদ্যুৎ আমদানি–রপ্তানি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।

সভায় নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য আন্তঃসংযোগ গ্রিড লাইন ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। যেহেতু বিদ্যুৎ পরিবহনে ভারতের ভূখণ্ড অতিক্রম করতে হবে, তাই বাংলাদেশ–ভারত–নেপালের ত্রিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে এ বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এছাড়া ভেড়ামারা এইচভিডিসি সিস্টেম ব্যবহার করে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সম্ভাবনা, নেপালে বেসরকারি খাতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ, এবং শীতকালে চাহিদা কম থাকায় বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপালে বিদ্যুৎ রপ্তানির সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

সভায় জানানো হয়, বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুতের বিশেষ আইন বাতিল করেছে। এর ফলে ভারতের জিএমআর গ্রুপের নেপালে নির্মাণাধীন আপার কার্নালী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে দেওয়া এলওআই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জিএমআর-কে গত ২৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।

এছাড়াও, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নে দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়, জ্বালানি অডিট ও জ্বালানি দক্ষতা বিষয়ক সহযোগিতা, এবং বাংলাদেশের রূফটপ সোলার প্রোগ্রামের আওতায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজ্ঞতা নেপালের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়।

জ্বালানি খাতে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিপিএমআই-এর প্রশিক্ষণ সক্ষমতার বিবরণ উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া ত্রিপাক্ষিক (বাংলাদেশ–ভারত–নেপাল) সমঝোতার পরবর্তী করণীয় নিয়েও গভীর আলোচনা হয়।

সভায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ এবং নেপালের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির বিদ্যুৎ, পানিসম্পদ ও সেচ সচিব চিরঞ্জীবী চাটৌট। এর আগে ২৬ নভেম্বর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সপ্তম সভা একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তী অষ্টম যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সভা ২০২৬ সালের অক্টোবরে নেপালে অনুষ্ঠিত হবে।