জাতীয়

আইজিপি বাহারুলের অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২৬ পিএম

আইজিপি বাহারুলের অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টু হত্যায় নেপথ্য ভূমিকায় জড়িত থাকার অভিযোগে বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমকে দ্রুত অপসারণ ও বিচারের দাবিতে তার পরিবার ও অনুসারীরা কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) শাহবাগ মোড়ে ‘শহীদ পিন্টু স্মৃতি পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আইজিপি বাহারুল আলমকে অপসারণ করে বিচারের আওতায় না আনা হলে দেশজুড়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” বক্তারা অভিযোগ করেন, বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় পিন্টুকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন তখনকার গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা ও বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলম।

নব্বইয়ের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য পিন্টু ছিলেন রাজপথের এক লড়াকু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সরকারবিরোধী আন্দোলনে তার উপস্থিতি সবসময় তৈরি করতো ভিন্নমাত্রা। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২০১৩ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় হঠাৎই তাকে ঢাকা থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। একই বছরের ৩ মে কারাগারেই মৃত্যু হয় তার।

পিন্টুর মৃত্যুর প্রায় এক দশক পর, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’-এর প্রতিবেদনে নতুন করে উঠে আসে আইজিপি বাহারুল আলমের নাম। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা সাজানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন তিনি।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পিন্টুর পরিবার ও অনুসারীদের মাঝে। মঙ্গলবার শাহবাগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন তারা। বক্তারা বলেন, “একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর নেতৃত্বে রাখা ন্যায়বিচারের প্রতি চরম অবমাননা। এতে প্রশাসনের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

সমাবেশে পিন্টুর সমর্থকরা অভিযোগ করেন, পিন্টুর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত গোষ্ঠী তাকে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে পিলখানা মামলায় জড়িয়ে ফাঁসিয়েছে। তারা বলেন, সত্য উদঘাটনে এবং পিন্টুর মৃত্যুর ন্যায়বিচারে আইজিপি বাহারুলের অপসারণ অত্যন্ত জরুরি।
পরিবার ও অনুসারীদের ৪৮ ঘণ্টার এই আল্টিমেটামকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম নিয়েছে। এখন নজর সকলের-সরকার এই দাবির প্রতি কী প্রতিক্রিয়া জানায়।