জাতীয়
জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তি ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি হাদির পরিবারের
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যরা তাঁর জীবনী শিক্ষামূলক পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার প্রতিবেশী ও রাজনৈতিক নেতা-মহলও হাদিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতির দাবি তুলেছেন।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে তার জন্মভূমি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকায় প্রতিবেশী ও রাজনৈতিক নেতারা এই দাবি জানান। হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত নলছিটিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
হাদির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাড়িতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভানুধ্যায়ীরা ছুটে আসেন। কান্না, আহাজারি এবং শোকমিশ্রিত পরিবেশে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার রাতে হাদির পরিবারের সদস্যরা কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ বা কথা বলেননি। শুক্রবার সকালে কেবল সংবাদকর্মীরা বাড়িতে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
হাদির ছোট ভগ্নিপতি আমির হোসেন বলেন, “ওসমান হাদি আমাদের মধ্যে থেকে চলে গেছে। তার প্রত্যাশা ছিল সারা বাংলাদেশকে মুক্ত করার এবং দেশের মানুষকে সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে রক্ষা করার। ওসমানের পথ অনুসরণ করে আরও হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ জন্মাবে এবং বাঙালির মুক্তির জন্য দাঁড়াবে। এখন আমরা যা নিরাপত্তা, সমবেদনা এবং সম্মান দিচ্ছি, তা আসলে জীবিত ওসমানের জন্য দেওয়া উচিত ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এ দেশের মানুষ আসলে স্বর্ণের টুকরা চিনে না; চিনে তখন, যখন সে চলে যায়। জুলাই বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশে ওসমানদের মতো মানুষদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে দেশের কল্যাণে রাখা উচিত ছিল। আজ আমাদের দাবি প্রশাসনের কাছে, যেন ওসমান হাদিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মানে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হয় এবং বাংলার বীর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। আমরা চাই, তার নামের সঙ্গে বাংলার বীরের মর্যাদা দৃঢ়ভাবে যুক্ত হোক।”